জেমস জয়েস’র ইউলিসিস :: পায়েল মণ্ডল

জুন ১৬, ১৯০৪। দিনটি সাধারণ হলেও সেটি অসাধারণ একটি দিন ছিল আইরিশ মর্ডানিস্ট লিখিয়ে জেমস জয়েসের কাছে। তখনো তিনি পৃথিবীখ্যাত হননি। বাইশ বছরের টকবকে যুবক জেমস জয়েস আর্টিস্ট হবার স্বপ্ন দেখছিলেন। নিজেকে নির্মাণ করছিলেন আর্টিস্ট হবার জন্য। জুনের প্রথম সপ্তাহে তাঁর জীবনে এলো প্রেম। প্রথম প্রেম। ফিনস হোটেলের চেম্বার মেইড নোরা বার্নাকল। জুনের ১৬ তারিখে প্রথম ডেটিং। সেইদিন জয়েস প্রেয়সী নোরার জন্য কোন উপহার নিয়ে যেতে পারেননি। সেই দেখার আঠারো বছর পরে তিনি নোরাকে যে-উপহার দেন, সেটা ছিল প্রাইসলেস। তখন তিনি ‘জেমস জয়েস’, প্লানেট আর্থের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মর্ডানিস্ট লিখিয়ে, যিনি শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক্সপেরিমেন্টাল উপন্যাস ইউলিসিস লিখে ফেলেছেন।

  উপন্যাসটির প্রেক্ষাপট হিসেবে জয়েস যে-দিনটিকে বেছে নিয়েছেন, সেটিও জুনের ১৬ তারিখ। ইউলিসিসের ঘটনাবলি জয়েস বর্ণনা করছেন চব্বিশ ঘন্টার সময়ের ফ্রেমে। এই দিনে উপন্যাসের নায়ক লিওপোল্ড ব্লুমের চোখে দেখা ডাবলিনের ঘটনা নিয়ে জয়েস রচনা করেন তাঁর মহাকাব্যিক উপন্যাস ইউলিসিস। পাঠক উপন্যাসটির মাঝামাঝি এসে বুঝতে পারে উপন্যাসে বর্ণিত গল্পের দিনটি হলো জুন ১৬, ১৯০৪। 

মর্ডানিস্ট লেখকদের মধ্যে অন্যতম জেমস জয়েস তাঁর উপন্যাস ইউলিসিসে ব্যবহার করেন ‘স্ট্রীম অফ কনশাসনেস’ এর লেখনী পদ্ধতি, যা তাঁর এই উপন্যাসটিকে কালজয়ী করেছে। তিনি হেনরি বার্গসনের এই ট্রেন্ডকে একটা ক্লাসিক রূপ দান করেন তাঁর এই মহান মহাক্যাবিক উপন্যাসে, যা পরবর্তী শত বছর সাধারণ ও বোদ্ধা পাঠকদের এই উপন্যাসের মায়াজালে আবদ্ধ করে রাখে। আঠারো অধ্যায়ের এই উপন্যাস আজও সাহিত্য-পণ্ডিতদের জন্য একটা গবেষণার বিষয়বস্তু। হেনরি বার্গসনের এই  ‘স্ট্রীম অফ কনশাসনেস’  আত্মস্থ করেছিলেন ডরথি রিচার্ডসন, ভার্জিনিয়া উলফ এবং জয়েস। তাঁদের মধ্যে জয়েসের কলমে এই লেখনীর ধারা স্থায়ীভাবে প্রাণ পায় উপন্যাস ইউলিসিসে। মহাকাব্য হলো একটি যুগ চেতনার বাহন। হোমার থেকে মিল্টন—বেছে নিয়েছিলেন মহাকাব্যের আঙ্গিক, এমন কী কিছু কাল আগের শ্রী অরবিন্দও। আংশিক ব্যাতিক্রম মনে হয় দান্তে। তাঁর লা দিভিনা কম্মেদিয়া মহাকাব্যের আয়তনে হলেও গঠন ও ধর্মে ভিন্ন, যেমন ভিন্ন জয়েসের ইউলিসিস। জয়েসের মিথ যে ওডিসি মহাকাব্যের ওডিসিউস বা ইউলিসিসের উপাখ্যান, সেটা শিরনামেই বোঝা যায়। ইউলিসিস যেন প্রাচীন আর আধুনিক উপন্যাসের একটা মিলনবিন্দু।

ইউলিসিসের প্রথম রিভিউ’র শিরোনাম ছিল  A Work of High Genius.— নিঃসন্দেহে শিরোনামটি ছিল যথার্থ। টি এস এলিয়ট উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন ইউলিসিসের। তিনি বলেন—‘the most important expression which the present age has found from which none of us can escape’ । এলিয়ট তাঁর প্রতিক্রিয়াটি ভার্জিনিয়া উলফসহ অন্যান্য লিখিয়ে বন্ধুদের জানান । উলফ ইউলিসিস পাঠ করার চেষ্টা করেন, কিন্তু তাঁর কাছে উপন্যাসটি আহামরি কিছু মনে হয়নি। উপন্যাসটির ২০০ পাতা পড়ে উলফ তাঁর ডায়েরিতে জয়েস সম্পর্কে লিখেছিলেন—‘A self-taught working man… egotistic, insistent, raw, striking, & ultimately nauseating.’ । টি এস এলিয়টকে তিনি লিখে লিখেছিলেন – ‘Never did any book so bore me!’

নিউইয়র্ক টাইমসে ড. কলিন্স ইউলিসিসের একটি রিভিউ লেখেন। তিনি ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন—‘বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাসের একটি হলো ইউলিসিস। উপন্যাসটি নিঃসন্দেহে এটির লিখিয়েকে অমর করে রাখবে যেমন ভাবে ব্রাদার কার্মাজভের লিখিয়ে দস্তয়ভস্কি অমর হয়ে আছেন বিশ্ব সাহিত্যে। জোর দিয়ে বলা যায় যে, এসময়ের কোনো ইংরেজি লিখিয়ে জেমস জয়েসের ভাষায় বা তাঁর লিখনীশৈলীর মত লিখতে পারবে না।’ হয়তো এমন উচ্ছ্বসিত প্রশংসা পাঠকদের কাছে তোষামোদি মনে হবে, কিন্তু এটাই বাস্তব চিত্র। ১৯২২ সালের এডমন্ড উইলসনের জুলাই সমালোচনা স্মরণযোগ্য। এডমন্ড লিখেছিলেন –‘‘মিস্টার জয়েসের ইউলিসিস শুধু ‘থিম’র উপর বিচার্য নয়, বরং ফিকশনটির ভাষা এবং নির্মাণশৈলী হলো প্রধান বিচার্য বিষয়। মিস্টার জয়েস তাঁর ৭৩০ পৃষ্ঠার ফিকশনটিতে কোথাও কোনো শূন্যস্থান রাখেননি, যার মোক্ষম সমালোচনা করা যেতে পারে ভাষাগত অথবা কাঠামোগত দুর্বলতার জন্য। মিস্টার ফ্লুওবেয়ারের পরে কারো লেখায় এত সম্পূর্নতা দেখা যায়নি।’  তিনি তাঁর রিভিউতে লেখেন ‘Ulysses is a work of high genius. It has the effect at once of making everything else look brassy.’


ইউলিসিসের কি সমালোচক ছিল না? ভার্জিনিয়া উলফের মতই হার্ভার্ড স্কলার ইয়ার্ভিং র‍্যাবিটও জয়েস এবং ইউলিসিসের ঘোর সমালোচক ছিলেন। তিনি বলেই ফেলেন ইউলিসিস লেখা হয়েছে জয়েসের in an advanced stage of psychic disintegration থেকে। সাত বছর ধরে লেখা উপন্যাসটি একজন ইউ এস পোস্টাল ক্লার্কের সুপারিশে নিষিদ্ধ হবার পরে এগারো বছর মামলা মোকদ্দমা পরে ইউ এস এ-তে প্রকাশিত হয়। ইউ এস বিচারক মনরো উলসে তাঁর ঐতিহাসিক রায়ে স্বীকার করে নেন ইউলিসিসের সাহিত্যমূল্য। রায়ে তিনি লিখেছিলেন – ‘The reputation of ‘Ulysses’ in the literary world… warranted my taking such time as was necessary… In ‘Ulysses,’ in spite of its unusual frankness, I do not detect anywhere the leer of the sensualist.”।  জয়েস ভক্তরা হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন এই ভেবে যে, ভাগ্য ভালো বিচারক উলসে হয়তো স্ত্রী নোরার কাছে তাঁর লেখা চিঠিগুলো পড়েননি।

জয়েস সৃষ্টি করেছেন এক নতুন ভাষা, যে ভাষায় আগে কখনো কেউ লেখেনি। এটা যেন ‘ইমেজিজম’র সফলতম প্রয়োগ। পৃথিবীর বোদ্ধা পাঠকরা অবাক বিস্ময়ে দেখেন কেমন ভাবে শব্দে-শব্দে এক নতুন ভাষা তৈরি হয় শিল্পিত মহাকাব্যিক ব্যাপ্তিতে। তিনি ভাষার ভোল পাল্টে দিলেন, নিজস্ব ব্যাকরণ ও বাক্যবিন্যাসে । শব্দে-শব্দে প্রচলিত সম্পর্ক চেতনার তোড়ে ভাসিয়ে দিয়ে মননের নবলব্ধ প্রক্রিয়ায় নতুন সম্পর্ক গড়ে। চেতনা আর শব্দের যুগলবন্দী হয়তো বিশ্বসাহিত্যে আর কখনো এমন ভাবে লেখা হয়নি, যেমন জয়েস লিখেছেন ইউলিসিসে। আইরিশ লেখক জয়েসের এই লেখার ইউনিক স্টাইল নাক উঁচু ইংরেজদের প্রতি একটা চাপেটাঘাত বটে। জয়েস দেখিয়ে দিলেন যে, তিনি ইংরেজ না হয়েও ইংরেজী ভাষায় লিখতে পারেন এবং শুধু তাই নয়, সেটা পরবর্তী শত বছর সাহিত্য-অঙ্গনে একক আধিপত্য বজায় রেখে চলেছে।

বিশ্বসাহিত্যে জেমস জয়েস এবং তাঁর লেখা নিয়ে যত আলোচনা-সমালোচনা, মামলা, নিষেধাজ্ঞা, গবেষণা, মাতামতি, নিউজ, এমন কী ইণ্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি নিয়ে বাণিজ্য, এমনটি অন্য কোনো লেখক ও তাঁদের লেখা নিয়ে খুব কমই পাওয়া যায়। মহান এই আইরিশ লিখিয়ে খুব কম, মাত্র চারটি উল্লেখযোগ্য বই—ডাবলিনার্স (গল্পগ্রন্থ), পোর্ট্রেট, ইউলিসিস এবং ফেনিগান্স ওয়েক  লিখে শতাব্দী জুড়ে বিশ্বসাহিত্য শাসন করছেন। চরম অর্থকষ্টে জীবন কাটানো এই লেখক, যার সমাধিস্থানের মূল্য বন্ধুরা চাঁদা তুলে শোধ করেন, আজ তাঁর ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টির মূল্য মাল্টিমিলিয়ন ডলার। তাঁর ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রক্ষার জন্য বানানো হয়েছে ‘জয়েস এস্টেট’!  জেমস জয়েস ইউলিসিস প্রকাশের পর থেকেই নিষেধাজ্ঞা ও মামলা নিয়েই পথ চলেছে। ইউলিসিস প্রকাশের পরপরেই ইউ এস পোস্টাল ডিপার্ট্মেন্ট উপন্যাসটিকে পর্নগ্রাফির ক্যটাগরিতে ফেলে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। বিজ্ঞ আদালত রায়ে বিনা দ্বিধায় স্বীকার করে নেয় যে, ‘ইউলিসিস’ হলো ক্লাসিক ওয়ার্ক-অফ-আর্ট। পঁচাত্তর বছর পরে যখন উপন্যাসটির  কপিরাইট স্বত্ব লোপ পায়, আবারো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিশ্বসাহিত্যের অঙ্গণ। এবার স্টেট বনাম জয়েস নয়। এবার জয়েস স্টেটের কর্ণধার জেমস জয়েসের পৌত্র বনাম জয়েস স্কলাররা।

সাল ২০১২,  জয়েসপ্রেমীদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর। জয়েসের মৃত্যুর একাত্তর বছর পরে তাঁর উপন্যাস ইউলিসিস প্রকাশের স্বত্ব লোপ পায়, যার ফলে যে-কারো তাঁর এই মহান উপন্যাস প্রকাশ বা যে-কোন পাবলিক ডোমেনে পোষ্ট করতে কোনো আইনি বাধা থাকে না।  জয়েসপ্রেমীদের জন্য এটা সুখবর হলেও জয়েস স্টেটের কর্ণধার দৌহিত্র স্টেফান জয়েসের জন্য এটা ছিল দুঃসংবাদ, কারণ তিনি দাদার মনুমেন্টাল ওয়ার্ক ওফ আর্টের স্বত্ব হারালেন, যা বছরে প্রচুর ডলার অর্জন করতো তাঁর স্টেটের জন্য। পৌত্র স্টেফান দাদা জয়েসের ইন্টেলেকচুয়াল সম্পত্তি রক্ষার ক্ষেত্রে বেশ রক্ষনণশীল  ছিলেন। তিনি এই বলে হুমকি দেন যে, দাদা জেমস জয়েসের কোন লেখা তার অনুমতি বিনা পাবলিকলি পাঠ, অভিনয় অথবা অন্য কোনো কারণে ব্যবহার করা যাবে না। করলে তিনি আদালতে যাবেন।

ইউ এস এ’তে উপন্যাস ইউলিসিসের কপি রাইট নিয়ে বেশ বিতর্ক ছিল। কিছু জয়েস-পণ্ডিত দাবী করেন যে, উপন্যাসটি পাবলিক ডোমেনে আসা উচিৎ, আবার অন্য একপক্ষ, যারা জয়েস এস্টেটের অনুগত, তারা বলেন ইউলিসিসের কপিরাইট ২০৩০ সাল পর্যন্ত সংরক্ষিত।  ইউলিসিসের কপিরাইট ২০১২ সালে প্রথম বাতিল হয়নি বরং কুড়ি বছর আগে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে ইউলিসিসকে পাবলিক ডোমেনে অবমুক্ত করা হয়। সে সময় ই ইউ ’ তে ‘অথোরিয়াল কপি রাইটের’  ৫০ বছরের এক আইনের  মাধ্যমে এটা করা হয়, যা শুধু ই ইউ-ভুক্ত দেশের জন্য প্রযোজ্য ছিল।  দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মাঝ দিয়ে অবশেষে ২০১২ সালে ইউলিসিস আমেরিকাসহ অন্য দেশগুলোতে কপিরাইট থেকে অবমুক্ত হয় ।  ইউলিসিস এ্যকাডেমিকদের ঘুম হরণ করার সাথে সাথে আইনী জগতেও ঝড় তোলে। 

জয়েস স্কলার জন কীড দশ বছর ধরে বিভিন্ন মিডিয়ায়, সভা ও সেমিনারে  বলে বেড়ান যে, ইউলিসিসের স্বত্ব আইনি ভাবে অবমুক্ত করে ছাড়বেন। এই লক্ষ্যে ডাব্লু ডাব্লু নর্টন অ্যান্ড কোম্পানী জন কীডকে এক লক্ষ ডলারের আর্থিক সহায়তা দান করে।  কীড কপিরাইটে বিশেষজ্ঞ আইনজীবী নিয়োগ করেন। এই আইনজীবীরা  কপিরাইট আইন পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করে মত দেয় যে, উপন্যাসটি প্রকাশের ৭৫তম বছর অর্থাৎ ১৯৯৭ সালে কপিরাইট স্বত্ব লোপ পাবে। যার অর্থ হলো, জানুয়ারির এক  তারিখ থেকে ইউ এস এর যে-কোন ষ্টেটে বৈধভাবে উপন্যাস ইউলিসিসের ফটোকপি, প্রিন্টিং, ওয়েব, পাবলিক পাঠ, অভিনয় করা যাবে। এমনকি প্যারিসের শেক্সপিয়র অ্যান্ড কোম্পানী থেকে প্রথম প্রকাশিত কপিটিও ওয়েব সাইটে প্রকাশ করা যাবে। এতে করে  ইউ এস এ’তে সাত দশক ধরে জয়েস এস্টেট এবং আমেরিকান পাব্লিশার্স র‍্যান্ডম হাউজের লাখ লাখ ডলারের ইউলিসিস বাণিজ্যের ইতি হয়। 

আমেরিকান প্রকাশনী সংস্থা  র‍্যান্ডম হাউজ সহজে হাল ছেড়ে দেবার পাত্র নয়। তাদের আইনজীবীরা একটা সূত্র বের করেন সেটা হলো আমেরিকায় উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৪ সালে। আর তাই তারা আর্জি করেন এই বলে যে আমেরিকায় ইউলিসিসের কপি রাইট ২০০৮ সালে রদ হবে ১৯৯৭ সালে নয়।

সম্প্রতি জয়েস এস্টেট তাদের লিটারারি এজেন্ট এন্ড্রু উইলিকে  নিয়োগ করেন আমেরিকাতে র‍্যান্ডম হাউজ ব্যতীত অন্য প্রকাশকদের ইউলিসিস প্রকাশে নিরুৎসাহিত করার জন্য। উল্লেখ্য র‍্যান্ডম হাউজ প্রতি বছর আমেরিকাতে ১.৯ মিলিয়ন ডলারের ইউলিসিস বিক্রি অব্যহত রাখে। উইলি পেঙ্গুয়িন, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেসে কড়া ভাষায় পত্র পাঠান, যেন তারা তাদের সম্পাদিত ১৯৯৮ ভার্সনের ইউলিসিস প্রকাশ থেকে বিরত থাকে।

জেমস জয়েসের পৌত্র স্টেফান জয়েস যিনি জয়েস এস্টেটের প্রধান, এক সাক্ষাৎকারে বলেন—‘আমি জয়েস, আমি জয়েসিয়ান নই। আমি চাই না দাদা জেমস জয়েসের মহান উপন্যাস বিভিন্নভাবে সম্পাদিত হয়ে বাজারে আসুক!’  স্টেফানের এই বক্তব্যে জয়েস স্কলাররা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এর জের হিসেবে আবারো বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে পড়েন জয়েস স্টেফান এবং জয়েস এস্টেট। এমনকি তাকে গুনতে হয় ক্ষতিপূরণও! হয়তো ভবিষ্যতে আবারো মামলায় জড়িয়ে পড়বে উপন্যাস ‘ইউলিসিস’। কে বলতে পারে!

এতো মাতামাতি যে-উপন্যাস নিয়ে, সেটার কাঠামোটা দেখে নেয়া যাক। উপন্যাসটিতে ২,৬৫,২২২টি শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। আঠারো এপিসোডে ভাগ করে জয়েস গল্প বয়ান করেন। যদিও জয়েস এপিসোডগুলোর শিরোনাম দেননি। স্ক্লাররা প্রতিটি এপিসোডের নাম দিয়েছেন ওডেসির কাণ্ড অনুযায়ী।

পর্ব-১

১। টেলিমেকাস ২। নেস্টর ৩। প্রটিয়াস

পর্ব-২

৪। ক্যালিপ্সো ৫। লোটাস ইটার ৬। হেডস ৭। এওলাস ৮। ল্যাস্ট্রিগোনাস ৯। স্যালাইয়া এন্ড ক্যারিবডিস ১০। ওয়ান্ডারিং রকস ১১। শিরেনস ১২। সাইক্লোপ্স ১৩। নসিয়া ১৪। ওক্সেন অফ দ্যা সান ১৫। কিয়র্কি

পর্ব-৩

১৬। ইউমেনিউস ১৭। ইথাকা ১৮। পেনিলোপি

ইউলিসিসের প্রতিটি পর্ব ভিন্ন ভিন্ন স্টাইলে লেখা এবং এজন্য পাঠকরা উপন্যাসটি পড়তে কখনোই একঘেমেয়ি লাগে না।

ইউলিসিসের ঘটনাবলি জয়েস বর্ণনা করছেন চব্বিশ ঘন্টার সময়ের ফ্রেমে। পাঠক উপন্যাসটির মাঝামাঝি এসে বুঝতে পারে উপন্যাসে বর্নিত গল্পের দিনটি হলো জুন ১৬, ১৯০৪! কালক্রমে এই দিনটি বিশ্বব্যাপি জয়েস প্রেমীদের কাছে ‘ব্লুমস ডে’ হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে। (ক্রমশ)

One thought on “জেমস জয়েস’র ইউলিসিস :: পায়েল মণ্ডল

  1. আপনার জয়েস নিয়ে সবগুলো লেখাই আমাকে দারুণভাবে বিস্মিত করে, কেন না দিনের পর দিন আপনি যে পরিশ্র করেছেন জয়েসকে এভাবে আমাদের সামনে তুলে ধরতে, তা প্রশংসার অধিক কিছু দাবী করে। আপনার এই দারুণ প্রয়াসের জন্য পাঠক হিসেবে ধন্যবাদ ও সাথে কৃতজ্ঞতাও জানিয়ে রাখলাম।

    Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s