বাংলা কলোনিয়াল কবিতার ট্রেন্ড :: ইমরুল হাসান

কবিতা বিষয়ে লেখা পইড়া কেউ কবিতা লেখে শুরু করে না, কিন্তু অন্য সব বিষয়ের মতো কবিতা নিয়াও কথা-বার্তা বলার রেওয়াজ চালু আছে। কবিতা লেখা ও কবিতা পড়ার বাইরেও আমরা বুঝতে চাই জিনিসগুলা কি রকম… তো, এই লেখাটারে এই জায়গা থিকা দেখতে পারলে ভালো।

অমিত চক্রবর্তী রিকোয়েস্ট করছিলেন নতুন কবিতার জায়গাগুলা নিয়া কিছু লিখতে, তখন লিখতে গিয়া দেখলাম, আগে তো এগজিস্টিং জায়গাটারে বুঝতে পারার চেষ্টা করা দরকার। যার ফলে উনি যেই রিকোয়েস্ট করছিলেন সেইটা আর লিখতে পারি নাই, কিন্তু এর সাথে রিলিভেন্ট একটা লেখা হইছে মনে হয়।…

Read More »

‘বিদূষিকার লন্ঠন’ থেকে কয়েকটি কবিতা

129287356_10157580456301039_2694506833223106469_n

এটা নিশ্চিতভাবে মেগালোম্যানিয়া যে, নিজের লেখাপত্র’কে ‘বডি অফ ওয়ার্ক’ হিসেবে বিবেচনা করে  দেখা শুরু করেছি ইদানিং। নিজের সব লেখা আমি এক জায়গায় করেছি, ‘কবিতা সংগ্রহ’ নামক সিউডো-শিরোনামে। কী দাঁড়ালো, আর কী দাঁড়ালো না, সেসব বিবেচনার বাইরেও নিজের কাজ’কে একত্রে রেখে দেখলে অনেক সময় গ্যাপগুলা সামনে চলে আসে এবং এটা পরবর্তী কাজগুলার ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনার করার জায়গাটা তৈরি করতেও সহায়তা করে । এতো  কথা বলছি, কারণ আন্দালীব’র ‘বিদূষিকার লন্ঠন’র পাণ্ডুলিপি পড়ে মনে হল তাঁর ‘বডি অফ ওয়ার্ক’—এ দারুণ অভিনব এক সংযোজন হতে যাচ্ছে এটা। যদিও প্রতিটা বই আসলে আলাদাই, কারণ সময় ও সময়ের ইন্টারপ্রিটেশানের জায়গায় প্রত্যেক আর্টিস্টেরই একটা স্বাতন্ত্র্যের জায়গা থাকে। তারপরও, কবি আন্দালীব’র দীর্ঘদিনের পাঠক হিসেবে একটা তুলনামূলক ইভাল্যুয়েশানের ব্যাপার চলেই আসে।

Read More »

নানরুটির আত্মজীবন :: অমিতাভ পাল

Drawn_To_The_Light__master

সবসময় আমি আমার নিজের কবিতা লিখতে চেয়েছি। একেবারে আমার কবিতা—আমার ঘামের গন্ধে ভরা, আমার অভ্যাসে আক্রান্ত, আমার ব্যক্তিসত্ত্বায় আচ্ছন্ন। তাই পৃথিবীতে প্রচলিত কবিতার যে-সংজ্ঞাগুলি আছে, কিংবা সমালোচকেরা যে-সব রাস্তা দেখিয়েছেন—আমার কবিতা তাদের মতো না হলেও আমার কিছু আসে যায় না। আমি আমার কবিতাই লিখবো এবং আমি যে-কবিতা লিখবো, সেটা আমি ছাড়া আর কেউ লিখতে পারবে না। কবিতা লেখার শুরুর দিনগুলিতে আমি এভাবেই আমার যাত্রাপথ ঠিক করতে চেয়েছিলাম। কেননা, কোথাও যেতে চাইলে একটা প্রেরণা, একটা উদ্যমতা লাগেই। আর কবিতার যাত্রা সব সময়ই অথই সমুদ্রের ওই পাড়ে কী আছে, প্রাচীন নাবিকদের এই চিরকালীন

Read More »

জেমস জয়েস’র ইউলিসিস :: পায়েল মণ্ডল

জুন ১৬, ১৯০৪। দিনটি সাধারণ হলেও সেটি অসাধারণ একটি দিন ছিল আইরিশ মর্ডানিস্ট লিখিয়ে জেমস জয়েসের কাছে। তখনো তিনি পৃথিবীখ্যাত হননি। বাইশ বছরের টকবকে যুবক জেমস জয়েস আর্টিস্ট হবার স্বপ্ন দেখছিলেন। নিজেকে নির্মাণ করছিলেন আর্টিস্ট হবার জন্য। জুনের প্রথম সপ্তাহে তাঁর জীবনে এলো প্রেম। প্রথম প্রেম। ফিনস হোটেলের চেম্বার মেইড নোরা বার্নাকল। জুনের ১৬ তারিখে প্রথম ডেটিং। সেইদিন জয়েস প্রেয়সী নোরার জন্য কোন উপহার নিয়ে যেতে পারেননি। সেই দেখার আঠারো বছর পরে তিনি নোরাকে যে-উপহার দেন, সেটা ছিল প্রাইসলেস। তখন তিনি ‘জেমস জয়েস’, প্লানেট আর্থের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মর্ডানিস্ট লিখিয়ে, যিনি শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক্সপেরিমেন্টাল উপন্যাস ইউলিসিস লিখে ফেলেছেন।

Read More »

হুলিও কোর্তাসার’র সাক্ষাৎকার :: অনুবাদ : অমিত চক্রবর্তী

হুলিও কোর্তাসার ( Jules Florencio Cortázar), জন্ম: আগস্ট ২৬, ১৯১৪, বেলজিয়াম। মৃত্যু: ফেব্রুয়ারি ১২, ১৯৮৪, ফ্রান্স। জাতীয়তা: আর্জেন্টাইন। কোর্তাসার লাতিন সাহিত্যের অন্যতম নন্দিত ঔপন্যাসিক, গল্পকার ও প্রাবন্ধিক। সমগ্র আমেরিকা ও ইউরোপের স্প্যানিশ ভাষাভাষী পাঠক ও লেখকদের উপর তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। কোর্তাসারকে লাতিন আমেরিকান জাগরণের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে গণ্য করা হয়। দ্বিতীয় উপন্যাস হপস্কচ তাঁকে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি দিলেও মূলত তাঁর জাদুবাস্তব ছোটগল্পগুলোর জন্যই তিনি সবচেয়ে বেশি সমাদৃত। তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প অনুসরণ করেই বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্রকার আন্তোনিয়োনি নির্মাণ করেন “ব্লো-আপ” সিনেমাটি। ১৯৮৪ সালে প্যারিস রিভিউ তাঁর একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে। প্যারিস রিভিউ’র পক্ষ থেকে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন জেসন বেইজ। নকটার্ন’র পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি অনুবাদ করেছে অমিত চক্রবর্তী

Read More »

সালভাতোরে কোয়াসিমোদোর কবিতা :: অনুবাদ: আলম খোরশেদ

salvatore-quasimodoআধুনিক ঐতালিক কবিতার অন্যতম পথিকৃত সালভাতোরে কোয়াসিমোদোর জন্ম ১৯০১ সালে, সিসিলিতে। পেশায় পুরকৌশলী কোয়াসিমোদো একজন আদ্যন্ত স্বশিক্ষিত কবি। তাঁর সতীর্থ ও সমসাময়িক অপর দুই আধুনিক জ্যুসেপ্পে উনগারেত্তি ও ইউজেনিও মন্তালের মতো তিনি ঠিক সাহিত্যের প্রাতিষ্ঠানিক ছাত্র নন। তাঁর শিক্ষা বহুবিচিত্র কর্মময়, দ্বন্দ-সঙ্কুল জীবন এবং নিজস্ব পঠনপাঠন থেকে। প্রথম যৌবনেই তিনি গ্রিক সাহিত্য ও দর্শন এবং দান্তে, পেত্রার্ক, স্পিনোজা প্রমুখ পড়ে শেষ করেন, যার সুস্পষ্ট প্রভাব লক্ষ করা যায় তাঁর কাব্যে। ইতালির আধুনিক কবিতার ইতিহাসে যে ‘হারমেটিক স্কুল’ বা ‘সন্ত ঘরানার’ Read More »

আন্তোনিয়োর মেঘ-এর দিকে তাকিয়ে :: আল ইমরান সিদ্দিকী

12661811_1149797075054017_1784065336806206938_nএকুশ শতকের মাত্র ষোলো বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। একুশ শতকের এই প্রভাতবেলায়, এই স্বল্প সময়, অনেকে কবিতা লেখায় মনোযোগী হয়েছেন। সবার কবিতা পড়ার সুযোগ হয়নি আমার। তবু অনেকের কবিতাই পড়েছি। তন্মধ্যে হাতেগোনা যে পাঁচ-সাতজনের কবিতা আমাকে বিশেষভাবে টানে, অমিত চক্রবর্তী তাদেরই একজন।অমিত চক্রবর্তী তার যাপিত জীবনকে সাবলীলভাবে কবিতায় নিয়ে এসেছেন। বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন বিষয়ে আমার আলোচনা পড়ার পর কেউ কেউ যখন শুনেছেন অমিতের কবিতা আমার ভালো লাগে, তখন একটু অবাকই হয়েছেন। অবশ্যই পছন্দ করার পিছে কিছু কারণ আছে। যখন আমরা অস্বীকার করি, তখন আগাগোড়াই অস্বীকার করি। যা-কিছু অস্বীকার করি,  সে-সবের ভিতর থেকে যাওয়া শক্তি আর সৌন্দর্যকে একদমই বিবেচনায় না নিয়েই সেসব অস্বীকার করি।আবার, যখন আমরা অংশবিশেষের সমালোচনা করি, তখন আর কেউ এটাকে ভুল ভাবে নেয়, ধরে নেয় তুমুল অস্বীকার। অমিত Read More »

হেনরি কার্তিয়ের ব্রেসোঁ’র সাক্ষাৎকার :: অনুবাদ: মাহমুদ আলম সৈকত

downloadহেনরি কার্তিয়ের ব্রেসোঁ (১৯০৮ – ২০০৪)। ৩৫সস ফিল্ম যুগের স্বনামধন্য ফরাসী আলোকচিত্রশিল্পী। স্ট্রিট ফটোগ্রাফি-জগতের নমস্য, পথ প্রদর্শক। ফটোগ্রাফি ভিত্তিক আন্তর্জাাতিক সংস্থা Magnum Photos -এর অন্যতম সংগঠক। পরাবাস্তববাদী ধারার শিল্পী, লুইআরাগঁ, আন্দ্রে ব্রিটনদের সহযোগী। আলোকচিত্র বিষয়ে বেশ খুঁতখুঁতে স্বভাবের ছিলেন, জীবনে একটি ছবিও তোলেন নি ফ্ল্যাশ ব্যবহার করে! বিশ্বাস করতেন, একটি ছবি তৈরী হয়ে ওঠে ভিউফাইন্ডারে, ডার্করুমে নয়। বর্ণিল রঙের প্রতি এক দুর্বোধ্য অনাস্থা সারাজীবন বয়ে বেরিয়েছেন ব্রেসোঁ, ফলে সাদা-কালোই তাঁর ছবির ভাষা। নিভৃতচারী, স্বল্পভাষী, প্রচারের আলোকে চিরকাল ভয় পাওয়া মানুষ এই ব্রেসোঁ। স্ট্রিট ফটোগ্রাফির পাশাপাশি আগ্রহ ছিলো পোর্ট্রটে-এ। পেইন্টিং-এ মজেছিলেন, পছন্দের মাধ্যম ছিল তৈলচিত্র। রেনেসাঁ যুগের মহানRead More »